রাম ঠাকুরের কথা
আমি যে দিন সেই "দুনিয়া ভাল করা” ভদ্রলোককে আমার বাড়ীতে লইয়া আসিয়াছিলাম সেই দিন রাত্রেই ঠাকুর ঢাকা চলিয়া যাওয়ায় সে যাত্রায় আর তাঁহার সহিত আমার সাক্ষাৎ হয় নাই। কিছুদিন পরে বড়দিনের ছুটিতে ঢাকা যাইয়া শুনিলাম যে ঠাকুর ইতিমধ্যে সেখানে গিয়াছিলেন, কয়েক দিনের জন্য বিক্রমপুর গিয়াছেন, শীঘ্রই ফিরিয়া আসিবেন। মনটা উৎফুল্ল ইইয়া উঠিল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আবার এক দুশ্চিন্তাও আসিয়া উপস্থিত হইল। মাত্র ১০ দিনের ছুটি, ৩ দিন তো প্রায় পার হইয়া গেল, বাকী কয়টা দিনের মধ্যে ঠাকুর আসিয়া না পড়িলে তো আর তাঁহার সঙ্গে দেখা হইবে না। সে দিন বৈকালেই কিন্তু নিশ্চিন্ত হইতে পারিলাম।
ঠাকুরের খোঁজে বীরেন মজুমদার মহাশয়ের ওয়াইজ ঘাট রোডের দোকানে আসিয়া জানিলাম যে সে দিন প্রাতঃকালেই ঠাকুর আসিয়াছেন এবং বীরেনবাবুর বাড়ীতেই আছেন। শুধু নিয়ম রক্ষার জন্যই বৈকালে আসিয়া তিনি দোকানটি খুলিয়াছেন। প্রফুল্লবাবু ও হরিদাসবাবুও আমার সঙ্গে ছিলেন, তাঁহারা বীরেনবাবুর সঙ্গে আমার পরিচয় করাইয়া দিলেন। আমার মনে হইল যে বীরেনবাবু যেন অত্যন্ত বিষন্ন; কারণ জিজ্ঞাসা করাতে বলিলেন যে দুপুর বেলা তাহার ঠাকুরের সঙ্গে এই দোকান সম্বন্ধে আলোচনা হইয়াছিল এবং সকল কথা শুনিয়া ঠাকুর নাকি দোকানটি বাড়ীতেই লইয়া যাইতে বলিয়াছেন। সেই জন্যই জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই দোকানটির ভবিষ্যৎ ভাবিয়া তাহার মন অত্যন্ত খারাপ হইয়া রহিয়াছে। আমি কি বলিয়াছিলাম স্মরণ নাই কিন্তু কয়েক বৎসরের মধ্যেই ঠাকুরের কথামত দোকানটি বাড়ীতেই আনিতে হইয়াছিল। দোকানটি ছিল চার দরজার একটি বড় ঘর লইয়া। কয়েক মাস পরে গ্রীষ্মের ছুটিতে ঢাকা আসিয়া দেখিলাম যে একটি দরজা গিয়াছে। আরও এক বৎসরের মধ্যে দুইটি দরজা চলিয়া গিয়া একটিতে আসিয়া ঠেকিল। কিছুকাল এই অবস্থায় থাকিয়া দোকানটি বাড়ীতেই চলিয়া আসিয়াছিল।
সে যাহাই হউক, কিছুক্ষণ পরেই বীরেনবাবু দোকান বন্ধ করিলেন এবং আমাদিগকে সঙ্গে লইয়া তাহার বাসায় ফিরিয়া আসিলেন। আমরা উপরে যাইয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া তাঁহার নিকটে বসিলাম। সাধারণ কুশল প্রশ্নাদি ছাড়া অন্য কোন আলোচনা হইয়াছিল কিনা মনে পড়িতেছে না। প্রফুল্লবাবুর অনুরোধে ঠাকুর পরের দিন প্রাতঃকালে তাহাদের বাড়ীতে, অর্থাৎ আমার শ্বশুরালয়ে, যাইতে স্বীকৃত হইলেন এবং স্থির হইল যে তিনি দুই দিন সেখানেই থাকিবেন। ব্যবস্থাটা বীরেনবাবুর বিশেষ মনঃপূত হইল না বুঝিতে পারিলাম, কিন্তু ঠাকুর নিজে সম্মতি দেওয়ায় তিনি আর বিশেষ কিছুই বলিতে পারিলেন না। বীরেনবাবু সহজে ঠাকুরকে তাহার বাড়ী ছাড়িয়া অন্য কোথাও যাইতে দিতে চাহিতেন না, সুতরাং কথাটার এত সহজে মীমাংসা হইয়া যাওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিলাম। কিছুক্ষণ পরে ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম।
জয় শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর।
লেখক: ডক্টর শ্রী ইন্দুভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাম ঠাকুরের কথা
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
এপ্রিল ০৩, ২০২৬
Rating:
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
এপ্রিল ০৩, ২০২৬
Rating:
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: